শিবচরে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে লুট হওয়া তিনটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হচ্ছে- গাইবান্ধার আল আমিন (৩৬), ঢাকার সাভার এলাকার পারভেজ হোসেন (৩০), নীলফামারীর ডোমার এলাকার জাকির ইসলাম (২৩) এবং ঢাকার সাভারের কুড়াগাও এলাকার মোঃ সবুজ হোসেন (৩৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২০২৫ সালের (তারিখ অনুযায়ী) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যাদুয়ারচর এলাকায় ১০–১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভুয়া ডিবি পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাস ছিনতাই করে। ডাকাতরা খেলনা পিস্তল, ওয়্যারলেস সেট ও হ্যান্ডকাপ ব্যবহার করে শেকপুর এলাকার বাসিন্দা মাইক্রোবাস চালক সলেমানকে ভয়ভীতি দেখায়।
ভুক্তভোগী সলেমান ঢাকা থেকে মেরামত শেষে নিজের মাইক্রোবাস (টিআরএক্স হাইএক্স, ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-০৭৭২) নিয়ে শিবচরের উদ্দেশে রওনা হলে যাদুয়ারচর এলাকায় পৌঁছামাত্র ডাকাত দল আরেকটি গাড়ি দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে পাঁচ্চর এলাকায় ফেলে রেখে তার মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক শিবচর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক-এর নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ কুমিল্লা, সাভার ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযানে ডাকাতদের দেখানো মতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতি করা তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ভুয়া গাড়ির নাম্বারপ্লেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাকাত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।