বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলটির চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন—গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তারেক রহমানই বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান।
বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শেষ হচ্ছে এবং দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক পালন করা হচ্ছে। এ কারণে কৌশলগতভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে দলের স্থায়ী কমিটির আগামী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিকতা আসতে পারে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উপধারা ২ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারার ভিত্তিতেই ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, গঠনতন্ত্রের একই ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী বলা হয়েছে—যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি বহাল থাকবেন। এই বিধান অনুসারেই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হয়েছেন। এ জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
তবে বাস্তবতায় দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এখনও তারেক রহমানকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, “খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশই অভিভাবকহীনতায় পড়েছে। তাঁর ছেলে তারেক রহমানও গভীর শোকে আছেন। এই সময়ে পদ-পদবি নিয়ে কারও ভাবনার সুযোগ নেই। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই এখন বিএনপির চেয়ারম্যান।”
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আড়াই বছরের মধ্যেই তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৪১ বছরের নেতৃত্বে তার অধীনে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দলটির নেতৃত্বের দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধেই ন্যস্ত হয়েছে।