ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি

শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনী নোটিশ, মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবি

দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিনিধি | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২.০৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২.০৮ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 327618 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 327618 জন
শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনী নোটিশ, মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবি


বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও দণ্ডাদেশকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে তা বাতিলে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা আপডেট


শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলে নেপলি এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।


আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচারটি এমন এক শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।


চিঠিতে আরও বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এতে বিচারিক স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি একজন বিচারক আগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।


প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।


শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


ল’ফার্মটি বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ। এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা বেআইনি।


সবশেষে তারা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ এর নভেম্বরে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ৪৫২ পৃষ্ঠার ওই রায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়। যার এক নম্বর অভিযোগে 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি' প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আদালত। 


এছাড়া তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় পুড়িয়ে হত্যার মতো অভিযোগ রয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেয় আদালত। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়।


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়।


২০২৪ সালের ১৭ই অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রতিনিধি | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২.০৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২.০৮ পূর্বাহ্ন