ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

যে প্রক্রিয়ায় ক্লুলেস মামলায় লুট হওয়া টাকা উদ্ধারসহ আসামী গ্রেফতার করলো পুলিশ

মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে মিরসরাই থানা
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ


আপডেট : বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১১.১১ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 3222320 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 3222320 জন
যে প্রক্রিয়ায় ক্লুলেস মামলায় লুট হওয়া টাকা উদ্ধারসহ আসামী গ্রেফতার করলো পুলিশ
মিরসরাই থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ইয়াকুব আলী মাসুদ (৬৫)। ছবি- দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ::

 “চট্টগ্রামের গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা থেকে ছেড়ে আসা সেন্টমার্টিন ইয়াছিন এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি গাড়িতে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে ব্যবসায়ীক কাজে রওয়ানা হন মো: আবুল কালাম। পথিমধ্যে মিরসরাই থানার মিঠাছড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে রমজানের ইফতার শেষে বাসে উঠে। পাশের  সিটে বসা অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে কৌশলে  জুসের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ালে অজ্ঞান করে তার সাথে ব্যাগে থাকা নগদ ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট হাতিয়ে নেয় ওই ব্যক্তি।” গত ১৪ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় এঘটনার স্বীকার হন ভূক্তভোগী আবুল কালাম- জানিয়েছে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।


এরপর ভুক্তভোগী আবুল কালাম অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে পেনাল কোডের ৩২৮/৩৮০ ধারা অনুসারে ১০/০৪/২০২৪ ইং: তারিখে মামলা নং-০৫ মিরসরাই থানায় দায়ের করেন। ক্লুলেস মামলাটি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব দেন মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) দীপ্তেশ রায়। ওসি’র পরামর্শে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। নিশ্চিত করা হয় তার অবস্থান। অবশেষে, নোয়াখালী জেলা ডিবি পুলিশের সহায়তায় গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল ) তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়ে মিরসরাই থানা পুলিশ।


গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম ইয়াকুব আলী মাসুদ (৬৫)। সে নোয়াখালী জেলার চরজব্বর থানার চরজব্বর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মফিজ মিয়ার বাড়ির মরহুম আবদুল হালিমের ছেলে। এ সময় তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক নগদ ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা, স্বর্ণের তাবিজ ও চোরাই কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। 



ভুক্তভোগী মো: আবুল কামাল চট্টগ্রাম রাঙ্গুনীয়া উপজেলার থান্ডাচড়ি ইসলামপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ বাড়ির মরহুম আবুল হাশেমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম শহরের টেরিবাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তিনি জানান, সেদিন আমি চট্টগ্রাম নগরীর গরিবুল্লাহ শাহ এলাকার বাস-স্টপেজ থেকে সেন্ট মার্টিন এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি এসি বাসযোগে ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা যাচ্ছিলাম। শহর থেকে আমার পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিও বসেন। মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে কিছু বুঝে উঠার আগে তিনি আমাকে একটি জুস পান করান। সেটা খেয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমার সাথে থাকা নগদ ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট হাতিয়ে নেয় ওই ব্যক্তি। এই ঘটনায় আমি মিরসরাই থানায় মামলা করি।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরসরাই থানার ওসি তদন্ত দীপ্তেশ রায় জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কাজ করতে থাকি। সনাক্তপূর্বক গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) নোয়াখালীর চরজব্বর থানা এলাকায় ডিবি পুলিশের সহায়তায় আমরা ইয়াকুব আলী মাসুদ নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। পরবর্তীতে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার নিজ বাড়িতে রাতে অভিযান চালিয়ে চোরাই হওয়া নগদ ছয় লাখ ২৩ হাজার টাকা, একটি সুজুকি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি সোনার তাবিজ হারসহ উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেছি। 


মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা চেষ্টা করেছি ব্যাবসায়ী আবুল কালামের লুট হওয়া টাকা উদ্ধার সহ আসামীকে গ্রেফতার করার, সফল হয়েছি ভালো লাগছে। যদিও মামলাটির শুরুটা ছিল অসম্পূর্ণ, ক্লুলেস; আমরা টিম মিরসরাই থানা বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে টেকনোলজি ব্যাবহার করে প্রাথমিকভাবে তার গাড়িতে উঠার প্রারম্বিক অবস্থা থেকে গন্তব্য পর‌্যন্ত নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করি। এরপর তার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, অবস্থান নিশ্চিত করে আসামি ইয়াকুব আলী মাসুদকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হই। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক নগদ অর্থসহ কিছু মালামাল জব্দ করি। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ



আপডেট : বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১১.১১ পূর্বাহ্ন