News Link: https://www.dailylalsobujbd.com/news/3gI
চট্টগ্রামের মিরসরাই বড়তাকিয়া সড়কে ইয়াবার একটি বড় চালান সহ পুলিশের জালে আটক হয় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ তিনজন। আটকের পর তাদের পরিচয় গোপন রেখে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনায় জড়িত এই দুর্ধর্ষ মাদককারবারিকে চাকরি ও বিভাগীয় তদন্ত থেকে রক্ষা করতে গণমাধ্যমে তথ্য দিতে গড়িমসি পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ আছে, ঘটনার দিন আটককৃত চালানের পরিমাণ ছয় হাজার পিস দেখানো হলেও তার চেয়েও বেশি ছিল। তবে প্রকৃত তথ্য আড়াল করে নামমাত্র চালান দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাদকের একটি বিরাট অংশ বাগবাটোয়ারা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। গ্রেপ্তারের ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র মতে, ওই পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক প্রোফাইলে পুলিশের এসআই পোশাক পরিহিত ছবি রয়েছে। তার ফেসবুক বন্ধু তালিকায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার কর্মরত একাধিক পুলিশ পরিদর্শক, উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শক রয়েছেন। তিনি ২০১৪-১৫ সালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে আকবর শাহ থানাতেও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে মিরসরাই বড়তাকিয়া রাস্তায় ইয়াবার চালান সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি কালো রঙের এক্স-ফিল্ডার গাড়ি জব্দ করা হয়। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পশ্চিম মুরাদপুর এলাকার আনোয়ার আলী সারেংয়ের ছেলে মো. নুর সোলেমান (৪২), বাঁশবাড়িয়া এলাকার সুবল দাশের ছেলে সুমন দাশ (৪৬) এবং চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনির মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. ইব্রাহিম বাবলা (৪০)।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালকের সিটের নিচ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ইয়াবাসহ ধরা এসআই, ব্যবহৃত ডিজিটাল স্কেল, গণনার সরঞ্জাম ও টর্চলাইট জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইসতিয়াক রুবেল বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ), ৩৮ ও ৪১ ধারায় মামলা করেন।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমরা পরে জেনেছি নুর সোলেমান পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর। তবে অপরাধী যে হোক আমাদের বিভাগের হোক বা অন্য যে কোন বিভাগের হোক কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবেনা। আমাদের উপরের নির্দেশ সকল অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা।