News Link: https://www.dailylalsobujbd.com/news/3hk
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় জমির মালিকানা নির্ধারণে বিভিন্ন সময় একাধিক জরিপ পরিচালিত হয়েছে। এসব জরিপ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন— সিএস, এসএ, আরএস, সিটি ও বিএস (বিআরএস) জরিপ খতিয়ান। জমির বৈধ মালিকানা প্রমাণে এসব খতিয়ানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রতিটি জরিপ নির্দিষ্ট সময়পর্বে সম্পন্ন হওয়ায় খতিয়ানগুলোর ধরন ও বৈশিষ্ট্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলো আলাদা করে চেনা বেশ কঠিন। ফলে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কোনটি সিএস খতিয়ান, কোনটি এসএ বা আরএস, আবার কোনটি বিএস খতিয়ান।
এ কারণে জমি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন বা আইনি প্রয়োজনে খতিয়ানের সঠিক পরিচয় জানা অত্যন্ত জরুরি। কোন খতিয়ান কোন সময়ের জরিপে প্রণীত হয়েছে এবং সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করার কিছু নির্দিষ্ট উপায় ও পদ্ধতি রয়েছে, যা জানা থাকলে সহজেই খতিয়ানগুলো চেনা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কোনটি কোন উপায় বা পদ্ধতিতে জানা যাবে— প্রথমে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস /সিটি জরিপ খতিয়ান কী?
জরিপ বিভাগ কর্তৃক সরেজমিন জমিতে গিয়ে জমির মালিকানা বিবরণ ও নকশা তৈরি করে যে রেকর্ড প্রকাশ করা হয়, তাকে সাধারণত খতিয়ান বলে। আমাদের দেশে এই পর্যন্ত যত গুরুত্বপূর্ণ জরিপ পরিচালিত হয়েছে, সেগুলো হলো— সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস /সিটি জরিপ।
সিএস খতিয়ান-
সিএস খতিয়ান হলো ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপকৃত খতিয়ান, যা ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এটির মাধ্যমে পুরো ভারত উপমহাদেশের সব জমির নকশা প্রস্তুত এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর দিয়ে এ খতিয়ানটি তৈরি করা হয়।
সিএস খতিয়ান চিনবার উপায় হচ্ছে— ১. এটি হবে দুই পৃষ্ঠার অর্থাৎ উভয় পৃষ্ঠার হবে। ২. এই খতিয়ানটি হবে লম্বালম্বি উপরের ছবির মতো। এটিকে লিগেল সাইজের পেপার ও বলা হয়! ৩. ছবির মতো এ খতিয়ানটির প্রথম পৃষ্ঠাতে জমিদার ও প্রজার নাম থাকবে। ৪. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটি কলাম থাকে।
এই জরিপের সময় জমিদারিপ্রথা ছিল। কারণ এটি ১৯৪০ সালের আগে হয়েছিল। তাই জমিটি যেই জমিদারের আওতাভুক্ত ছিল এবং জমিদারের যে প্রজার ছিল, তাদের নাম উক্ত খতিয়ানটিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এসএ খতিয়ান-
এসএ খতিয়ানটি হলো পাকিস্তান শাসনামলে জরিপকৃত খতিয়ান। ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হলে আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হই। আর এ পাকিস্তান শাসনামলে জমিদারিপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। তাই আবার ভূমি জরিপ করার প্রয়োজন পড়ে। যার ফল স্বরূপ ১৯৫৬ সালে পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশ আবার জরিপ করা হয়। যাকে এসএ জরিপ খতিয়ান বলে। তখন এ জরিপটি দ্রুততার সঙ্গে করাতে অনেক ভুল-ভ্রান্তি হয়। তারপরও এসএ খতিয়ানটি এখনো জায়গাজমির ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
এসএ খতিয়ান চেনার উপায় হচ্ছে—১. এই খতিয়ানটি হবে এক পৃষ্ঠার। ২. এই খতিয়ানটি ছবির মতো আড়াআড়ি হবে। ৩. ছবির মতো এ খতিয়ানটির ডানপাশে সাবেক খতিয়ান সিএস এবং হাল নম্বর থাকবে। ৪. রে সার্ভে বা রে ; সা ; নং লেখা থাকবে না।
আরএস খতিয়ান-
আরএস জরিপটি করার মূল কারণ হচ্ছে এসএ জরিপ খতিয়ান ভুল থাকার কারণে। এ জরিপটি জমি, মালিক ও দখলদারের তথ্য নিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এখন এ খতিয়ানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খতিয়ান। এটি ১৯৬৬-৮o এর মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় এর আগে এবং কিছু এলাকায় এখনও চলমান।
আরএস খতিয়ান চেনার উপায় হচ্ছে—১. এই খতিয়ানটি ১/২ পৃষ্ঠার হয়ে থাকে এবং হাতে লেখা থাকে। ২. এ খতিয়ানটি হবে লম্বালম্বি উপরের ছবির মতো। যাকে ইংরেজিতে লিগেল সাইজের পেপারও বলে। ৩. ছবির মতো এ খতিয়ানের একদম উপরে ডানপাশে লেখা থাকবে "রেসার্ভে নং", যা এই খতিয়ানটি চেনার একদম সহজ পথ।
সিটি জরিপ খতিয়ান-
সিটির আরেক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ, যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এই খতিয়ানটি চেনার উপায় হচ্ছে—১. এ খতিয়ানটি হবে আড়াআড়ি। ২. এ খতিয়ানটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার টাইপকৃত হবে, যা দেখতে ঠিক উপরের ছবিটির মতো।
বিআরএস খতিয়ান-
বিআরএস সারা দেশে এখনও চলমান। যেসব এলাকায় আরএসের পর নতুন কোনো জরিপ হয়নি, সেখানে বিআরএস সম্পন্ন হচ্ছে।
-- এটি চেনার উপায় হচ্ছে—১. এটি আড়াআড়ি কম্পিউটার প্রিন্ট। ২. অনেকটা সিটি জরিপের অনূরুপ ।