News Link: https://www.dailylalsobujbd.com/news/3i9
নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হলে ফলাফল মেনে নেবে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে জয়ের আগাম ঘোষণা দিতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হয়, তাহলে কেন মেনে নেবো না? আমরা সব দলই মেনে নেবো। তবে একটি শর্ত আছে—নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। জনগণ ভোট দিলে আজ থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক সূচনা হতে পারে।”
তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছেন। তবে কিছু জায়গায় অপ্রত্যাশিত ঘটনার খবর পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, একটি রাজনৈতিক দল বারবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে, যা কাম্য নয়। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, যাতে মানুষ সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিতে পারে।”
জয়ের ব্যাপারে বিএনপি কতটা আশাবাদী—এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “আমরা কনফিডেন্ট। আলহামদুলিল্লাহ, আশাবাদী বিজয়ের ব্যাপারে।” তবে কত আসন পেলে সন্তুষ্ট হবেন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানিয়ে তিনি বলেন, “যত আসন পেলে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবো, ততটুকুই প্রত্যাশা করছি।”
বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের সঙ্গে ছিলেন, কমবেশি সবাইকে নিয়েই দেশ পরিচালনার ইচ্ছা রয়েছে। ফল গণনায় দেরির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফল গণনায় দেরির কোনো কারণ দেখি না। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যত দ্রুত সম্ভব ফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।” অতীতের ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে জয়ের আগাম ঘোষণা দেওয়া ভোটারদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হতে পারে। তিনি বলেন, “জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আমাদের গভীর আস্থা রয়েছে।”
তিনি জানান, নির্বাচনের শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে কিছু স্থানে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যেখানে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের সার্বিক কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। গত ৫৪ বছরে যে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, আগামী পাঁচ বছরে যেন সে রকম একটি দেশ গড়ার পরিবেশ তৈরি হয়।”
নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের এমন বক্তব্যে ভোটের পরিবেশ, ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।