আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে টানা চার দিনের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিনসহ মোট ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)-এর মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, “সহজভাবে বলতে গেলে, যেসব বস্তু থেকে আমাদের লক্ষ্য করে আঘাত আসতে পারে—আমরা সেগুলোতে হামলা চালিয়েছি। আমাদের বি-১ ও বি-২ যুদ্ধবিমান আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানি নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিনসহ ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, গত কয়েক দশক ধরে এসব জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হয়রানি করে আসছিল ইরান। বর্তমানে ওই তিন অঞ্চলে কোনো ইরানি জাহাজ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পৃথক সামরিক অভিযানঃ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে Operation Roaring Lion এবং যুক্তরাষ্ট্র Operation Epic Fury নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। গত চার দিনে ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাডমিরাল কুপার।
কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাঃ
এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি Al Udeid Air Base–এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটি কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে এবং অন্যটি ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।