চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছে। এসময় বাধা প্রাপ্ত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও আসন্ন এয়োদশ সংসদ নির্বাচেনর মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। বুধবার সকালে করেরহাট বাজারে লিফলেট প্রদানের সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাকে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লাঞ্চিত হয়েছেন দৈনিক মানবকন্ঠ ও চ্যানেল এস এর উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাব’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাব’র উপজেলা প্রতিনিধি ইমাম হোসেন। হামলাকালে তাদের ‘চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান’ বলে মিছিল দিতে দেখা যায়।
এসময় দেখা যায়, মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বাজারের বিভিন্ন দোকানে জনসাধারনের মাঝে লিফলেট বিতরণ শুরু করলে- প্রতিপক্ষ বিএনপি’র নেতা-কর্মী-সমর্থকদের একটা গ্রুপ বাধা দেয়। সেখানে লিফলেট বিতরণকালীন তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এক পর্যায়ে কর্মসূচী পণ্ড করে দেয় এবং সেখান থেকে কর্মসূচী শেষ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সমগ্র মিরসরাইব্যাপী পদযাত্রা ও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে করেরহাটে আমার গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল। এর আগে আমি বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাই। আমার সকল গণসংযোগে বিপুল জনসম্পৃক্তকায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একদল বিপথগামী ও বিএনপি থেকে বহিস্কৃতদের অনুসারীরা করেরহাটে আমার শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইয়াসিন মিজান ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জহির উদ্দিন বাবলুর নের্তৃত্বে আমার শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ ও দেশনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা লিফলেট বিতরণকালে তারা হামলা করে। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। যে কোন ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সেখানকার কার্যক্রম স্থগিত করি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহির উদ্দিন বাবলু বলেন, করেরহাটে প্রতি হাটবারে আমরা ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করে থাকি। বুধবার তারই অংশ হিসেবে আমরা গণসংযোগ করতে গেলে শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর মুখোমুখি হই। এতে সামান্য তর্কাতর্কি হয়েছে। হামলার বিষয়টি সত্য নয়।

এবিষয়ে সাংবাদিক নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও করার সময় মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।
সাংবাদিক ইমাম হোসেন জানান, পেশাগত দায়িত্বপালন কালে আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে নিজ অনুসারী কর্তৃক হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ন সম্পাদক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়টা আমি আপনাদের কাছে শুনলাম। যে বা যারা হামলা-হেনস্থা করেছে আপনারা চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ফোজদারি মামলা করতে পারেন। এছাড়া, আমাকে তাদের (হামলা ও হেনস্থাকারী) নাম দেন, আপনারা চাইলে আমি তাদের ডেকে বিচার করবো। তিনি মামলার বিষয়ে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
এবিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন- সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে যেভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, তা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলে। আমরা জোর দাবি জানাই, দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা মনে করি, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই সকল সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ জানান- প্রতিকার না পেলে খুব দ্রুত কর্মসূচী আসছে।