ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘হাসনা মওদুদ’

দলীয় মনোনয়নে বাধায় আশাহত; জানালেন- ২০১৭ সাল থেকে বাড়ি হারিয়েছি!
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

জয়া হাসান | সংবাদদাতা
নোয়াখালী জেলা
মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১.০২ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১.০২ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 354430 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 354430 জন
আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘হাসনা মওদুদ’
-- নোয়াখালী–৫ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।


দলীয় মনোনয়নে বাধায় আশাহত হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, নোয়াখালী–৫ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট ও সদরের একাংশ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপির প্রয়াত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বুধবার তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


স্ট্যাটাসে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ লেখেন, দুঃখের সঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন যে নোয়াখালী–৫ আসন থেকে দলীয়ভাবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তিনি নিজে মিলিয়ে প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকার মানুষের সেবা করে এসেছেন। অথচ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, দলীয় মনোনয়নপত্র ছাড়া কোনো দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে না।


-- সংযুক্ত স্ক্রীনশর্ট- ফেসবুকে  ও প্রার্থীর স্ট্যাটাস।

এই সিদ্ধান্তে তিনি গভীরভাবে আশাহত হয়েছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, আওয়ামী লীগের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে ২০১৭ সাল থেকে তিনি তার নিজস্ব বাড়ি হারিয়েছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এরপরও নোয়াখালীর মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা তাকে নির্বাচনের মাঠে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।


সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বাধ্য হয়েই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন করেছেন বলে জানান হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। একই সঙ্গে তিনি নোয়াখালী–৫ আসনের ভোটারদের কাছে সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।


রাজনৈতিক অঙ্গনে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ কোনো নতুন নাম নন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নীরবে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নোয়াখালীর রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের যে প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নোয়াখালী–৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অনুসারী ও দীর্ঘদিনের সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি আলাদা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


উল্লেখ্য, নোয়াখালী–৫ আসন বরাবরই একটি ভিআইপি ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসনে অতীতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই আসনে বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতা ও আবেগঘন রাজনীতির ইঙ্গিত মিলছে।


হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও নৈতিক সমর্থনই তার একমাত্র শক্তি। সব বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যেতে চান।


উল্লেখ্য, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালী–৫ আসন থেকে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চারবার নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রায় ১৫ বছর জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নোয়াখালীর উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা আজও এলাকাবাসীর স্মৃতিতে গভীরভাবে স্মরণীয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | রাজনীতি
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

জয়া হাসান | সংবাদদাতা
নোয়াখালী জেলা
মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১.০২ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১.০২ পূর্বাহ্ন