শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও ‘গরিবের ডাক্তার’ খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) মারা গেছেন। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁর শরীরে পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস কেউরভাঙা বাজারে ওষুধ ব্যবসা করতেন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
নিহতের ভাগ্নিজামাই প্রান্ত দাস জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে খোকন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার ভোরের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে আজই গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বিধান সরকার বলেন, খোকন চন্দ্র দাসের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, আহত অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাস হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন। তাঁরা হলেন—কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১)। প্রাথমিক তদন্তে হামলায় জড়িত আরও একজনের নাম পাওয়া গেছে, তিনি হলেন স্থানীয় শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শাহবাগ থানার সঙ্গে সমন্বয় করে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিল খোকন চন্দ্র দাস। গত বুধবার রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় এখন তাঁকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসারত থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।