ফেনীর সোনাগাজীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আইয়ুব নবী তারেক(২৬) নামের এক তাঁতিদল নেতাকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। জানা যায়, একই এলাকার এক জামায়াত কর্মী ওহিদুর তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে খুন হয় তারেক।
সে বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের ওহিদুর রহমানের স্থানীয় জামায়াত কর্মী নাহিদ তার স্ত্রীকে দীর্ঘ দিন যাবৎ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এর আগেও একাধিকবার তাঁতি দল নেতা তারেক বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। বারবার পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় তারেকের উপর ক্ষীপ্ত ছিল ওহিদুরের পরিবার।
বুধবার সন্ধ্যায় ফের নাহিদের স্ত্রী তার ওপর নির্যতানের বিচার চেয়ে তারেককে ওই বাড়িতে ডেকে নেন। তারেক নাহিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা দিয়ে নির্যাতনের শাস্তি দিবেন বলে ভয়ভীতি দেখান। এ সময় জামায়াত কর্মী নাহিদ, তার ভাই আবু সাঈদ, পিতা ওহিদুর রহমান এবং মা নুর নাহার মিলে তারেককে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্য নিশ্চিত করেন।
উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের সদস্য সচিব আবদুল আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মো. মোস্তফা জানান বিষয়টি আমি শুনেছি পারিবারিক কারণে ঘটেছে। আরও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।
নিহত তারেকের পিতা কামাল উদ্দিন জানান, ভোটের সময় থেকে তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওই জামায়াত পরিবারের সদস্যরা। ইফতারের পর ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত তারেকের বিরুদ্ধে একটি ওয়ারেন্ট ছিল তবে এটি কোন রাজনৈতিক হত্যা নয় এটি পূর্ব শত্রুতার জেরের কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই ক্ষোভের বশিভুত হয়ে ডেকে নিয়ে তারেককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।