খারিজ হয়ে যাওয়া একটি হত্যা মামলা নতুন করে দায়ের করে একজন সাংবাদিককে গায়েবিভাবে আসামি করার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নয় বছর আগের একটি হত্যা মামলায় পরশুরামের সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টুকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আমলী আদালত সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাটি খারিজ করে দেন। তবে খারিজের প্রায় আট বছর পর গত ১৭ ডিসেম্বর নিহতের খালাত ভাই পরিচয়ে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ড. হাসান মাহমুদকে প্রধান আসামি করে মোট ১০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬ নম্বর ক্রমিকে ফেনীর পরশুরামের সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টুর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ ঘটনার সময় ও ঘটনার স্থান—উভয়ের সঙ্গেই সাংবাদিক মিন্টুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের বাইরে থাকা একজন সাংবাদিককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গায়েবি আসামি করায় ফেনী জেলার সাংবাদিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ ও হয়রানির অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করে আসছেন। তিনি ২০০০ সালের শুরুতে দৈনিক প্রথম আলোর কন্ট্রিবিউটর হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং পরে পরশুরাম-ফেনী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টানা তের বছরেরও বেশি সময় প্রথম আলোর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পর একে, যায়যায়দিন, আজকের পত্রিকা, দৈনিক আমাদের সময়, ইংরেজি দৈনিক নিউ এজে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা বলছেন, মিথ্যা মামলা দায়ের করা একটি ভয়ংকর অপরাধ। এ ধরনের হয়রানি অব্যাহত থাকলে তা কেবল একজন সাংবাদিক নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। তারা অবিলম্বে গায়েবি আসামির তালিকা থেকে সাংবাদিক মিন্টুর নাম প্রত্যাহার এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, আজ যদি একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, কাল তা সবার জন্যই অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ফেনীসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।