ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

পোশাক খাতে টানা ধস: এক বছরে বন্ধ ১৮৫ কারখানা, বেকার লাখো শ্রমিক

অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২.৫০ পূর্বাহ্ন

আপডেট : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২.৫১ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 1888337 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 1888337 জন
পোশাক খাতে টানা ধস: এক বছরে বন্ধ ১৮৫ কারখানা, বেকার লাখো শ্রমিক
৥--ছবি- ইন্টারনেট।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জ্বালানিসংকট ও শ্রমিক আন্দোলনের জেরে দেশের তৈরি পোশাক খাতে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস। গত এক বছরে ১৮৫টির বেশি গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন লাখের বেশি শ্রমিক। শুধু গত এক মাসেই ২৪টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছেন ৬৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক।


রপ্তানিতেও দেখা দিয়েছে বড় ধস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে টানা দুই মাস পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার ফলে শিল্প খাতের টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


গত দুই দিনে দেশের অন্যতম পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস গ্রুপ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে তাদের আটটি কারখানা। শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অস্থিরতার কারণে উৎপাদন পরিবেশ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো হলো— প্যাসিফিক জিনস-১, প্যাসিফিক জিনস-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাকসেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ারকওয়্যারস, ইউনিভারসেল জিনস, এইচটি ফ্যাশন ও জিনস ২০০০। এসব কারখানায় কর্মরত ছিলেন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক। অবশ্য পরবর্তীতে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটি খোলার ঘোষনা দেয় কর্তৃপক্ষ


এর আগে মাত্র ২০ দিন আগে নাসা গ্রুপের  ১৬টি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ১০টি, গাজীপুরে ২টি, চট্টগ্রাম ইপিজেডে ২টি এবং কুমিল্লা ইপিজেডে ২টি কারখানা রয়েছে।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আত্মগোপনে যান নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। পরবর্তীতে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের পর থেকেই নাসা গ্রুপের কারখানাগুলিতে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ে যায়।


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের ত্রিপক্ষীয় সভায় মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এবং অন্যান্য পাওনা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।


বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন পাভেল গণমাধ্যমকে বলেন, “গত এক বছরে ১৮৫টি গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; এর প্রভাব পড়ছে রপ্তানিতেও। শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”


বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানির সংকট নিরসন এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নিশ্চিত না হলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি গভীর সংকটে পড়বে।


 * এক বছরে বন্ধ: ১৮৫টি কারখানা, * বেকার শ্রমিক: ১ লাখের বেশি, * রপ্তানি কমেছে: ৫–৬%, * প্যাসিফিক জিনস বন্ধ কারখানা: ৮টি, * নাসা গ্রুপ বন্ধ কারখানা: ১৬টি।


বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের এই টানাপোড়েন যদি দ্রুত না থামে, তবে এর প্রভাব গোটা অর্থনীতিতেই মারাত্মকভাবে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | জাতীয়
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২.৫০ পূর্বাহ্ন
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২.৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ