ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রাজস্ব ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ নয়া নির্দেশে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরুরি এই নির্দেশে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত রাজস্ব থেকে আদালত কিংবা দেশটির পাওনাদারদের কোনও অর্থ দেওয়া যাবে না। বরং এই অর্থ ভেনেজুয়েলার শান্তি, সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই ব্যবহার করতে হবে।
নয়া নির্দেশে কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম উল্লেখ না করলেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সরকারি ও কূটনৈতিক স্বার্থেই ভেনেজুয়েলার সম্পত্তি বর্তমানে মার্কিন কোষাগারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বা বেসরকারি দাবিদারদের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দের প্রশ্নই উঠছে না।
হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। তাই সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই দশক আগে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প জাতীয়করণের জেরে মার্কিন তেল জায়ান্ট এক্সন মোবিল ও কনকোফিলিপস দেশটি থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। সেই সময় তাদের সম্পত্তি জাতীয়করণ করা হয়, যার বিপরীতে এখনো কয়েক শত কোটি ডলার পাওনা দাবি করে আসছে ওই সংস্থাগুলি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে এক্সন, কনকোসহ একাধিক বড় তেল কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকের দিনই ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্ব সংক্রান্ত এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ জারি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার কূটনৈতিক কৌশল, অন্যদিকে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলিকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতেই এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।