ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার খবর—বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে কী বার্তা যাচ্ছে?

বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের সমান শ্রেণীতে
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২.৩৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২.৪৩ পূর্বাহ্ন


নিউজটি দেখেছেনঃ 171405 জন

  • নিউজটি দেখেছেনঃ 171405 জন
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার খবর—বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে কী বার্তা যাচ্ছে?
—— সংগৃহীত ছবি।

বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় হাইকমিশন ও অন্যান্য মিশনে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন খবর ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা এবং পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ধারাবাহিক টানাপোড়েন চলছে। দুই দেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম কার্যত স্থগিত রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়ায় সম্পর্কের উত্তাপ আরও বেড়েছে। এমনকি উভয় দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।


এই উত্তেজনার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের আইপিএলে খেলতে অনুমতি না দেওয়া এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এরই মধ্যে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার খবর সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে কী বার্তা যাচ্ছে? বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে এখন ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ বা পরিবার-ছাড়া পোস্টিং হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এর অর্থ হলো, কূটনীতিকদের পরিবারসহ অবস্থানের জন্য বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে—যা পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের মতো দেশের সঙ্গে তুলনীয় একটি অবস্থান।


তবে এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অফিসিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এমন কোনো লিখিত নির্দেশ তারা পাননি। যদিও একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় মিশনে কর্মরতদের ওপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়—বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একটি দেশের কূটনৈতিক পোস্টিংকে ‘নন ফ্যামিলি’ হিসেবে ঘোষণা করা আন্তর্জাতিক পরিসরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়, যা বিনিয়োগ, কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।


সব মিলিয়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার খবর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করছে—যেখানে আস্থার ঘাটতি, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ এলএসবিডি/এনকেডি

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ | সারা বিশ্ব
দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক | দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ
ঢাকা
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২.৩৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২.৪৩ পূর্বাহ্ন