বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কার ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি বক্তব্যে জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনগুরুত্বহীন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থায়নবিহীন ‘জম্বি প্রকল্প’ চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অধিকাংশ অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী ছিল, যা থেকে উত্তরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, আয় বৃদ্ধি হলেও তা সীমিত কিছু মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল, ফলে বৈষম্য বেড়েছে। দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উচ্চ সুদের চাপ বাজেটে প্রভাব ফেলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষি কার্ডের পাইলটিং এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও সরকার কাজ করছে।
পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলধন গঠনে ব্যাংকের পরিবর্তে পুঁজিবাজারকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিকে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে।
সর্বশেষে তিনি বলেন, সরকারের এবারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়। লক্ষ্য টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।