ঢাকা
খ্রিস্টাব্দ

ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে আন্দোলন / অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার
অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার

গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশেই এ বার সরাসরি মাঠে নামছে ‘সঙ্ঘ পরিবার’ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ রাজ্যে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ‍্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে।

বিস্তারিত
ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে আন্দোলন / অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার
অনশন প্রত্যাহার ও আরএসএসের পাল্টা মাঠে নামা: কোণঠাসা ককরোচ পার্টি, নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার

গ্রাফিকঃ দৈনিক লাল সবুজ বাংলাদেশ।

ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশেই এ বার সরাসরি মাঠে নামছে ‘সঙ্ঘ পরিবার’ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ রাজ্যে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ‍্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে।

বিস্তারিত

ভারতে নিটের প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় গোটা দেশেই এ বার সরাসরি মাঠে নামছে ‘সঙ্ঘ পরিবার’ ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। শিক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ রাজ্যে যা শুরু হচ্ছে শুক্রবার দুপুর থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপকদের সংগঠন এবিআরএসএম, বিএসএম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ‍্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে মিছিল ও পথসভার ডাক দিয়েছে জেলায় জেলায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতাতেও কেন্দ্রীয় মিছিল হবে। 

কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করে নিলেও ককরোচ জনতা পার্টি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড়। শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তারা। এ দিনই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে পথে নামছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও তাদের সঙ্গী। মিছিল, ধর্মঘট, ক্লাস বয়কট-সহ বিবিধ কর্মসূচি নিয়েছে তারা।



সঙ্ঘ পরিবারের অভিযোগ, নিট-আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে গোটা দেশেই বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছেন বামপন্থীরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে ওই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছে। সেই কারণেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে পথে নামার সিদ্ধান্ত। যেহেতু শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক সংগঠন একসঙ্গে পথে নামবে বলে স্থির হয়েছে, তাই একটি অভিন্ন ব‍্যানারের অধীনে এই কর্মসূচিগুলির আয়োজন করা হবে। সেটির নাম ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই ব‍্যানার সামনে রেখে যে সংগঠনগুলি পথে নামছে, সেগুলির রাজ‍্য নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বৈঠকও সেরে নিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গে রায়গ়ঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুক্রবার বেলা ১২টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীদের সে সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার সঙ্ঘ পরিবার পথে নামছে ঝাড়গ্রামে। বিকেল সাড়ে চারটেয় ঝাড়গ্রাম পাঁচমাথার মোড়ে জমায়েতের ডাক। সেখান থেকে শুরু হবে মিছিল। শেষে পথসভা। বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমানেও মিছিল, পথসভা ইত্যাদির ডাক দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিল আয়োজন করা নিয়েও কথা শুরু হয়েছে বলে সঙ্ঘ সূত্রের খবর।

এবিআরএসএম রাজ‍্য নেতা বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘প্রশ্ন ফাঁস হওয়া অবশ‍্যই উদ্বেগজনক ঘটনা এবং সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন। কিন্তু নিট-এর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁসের পরেও কোনও ছাত্রের বছর নষ্ট হতে না-দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পুনঃপরীক্ষা করিয়েছে এবং সুষ্ঠু ভাবে তার ফল প্রকাশও করিয়ে দিয়েছে। তার পরেও এই রকম হিংসাত্মক আন্দোলন অনর্থক। সেই বার্তা নিয়েই আমরা পথে নামছি।’’ বিএসএম-এর প্রান্ত টোলি সদস্য অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘নিট-কাণ্ড বা প্রশ্ন ফাঁস রোখার দাবি এখন মুখোশ মাত্র। এই আন্দোলন ছাত্রেরা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাতে দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়েছে। তারাই পুরো আন্দোলনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।’’

......৫ বছর জেল, কোটি টাকার জরিমানা! মোদির আশ্বাসের পরই প্রশ্নফাঁসে কড়া আইনের পথে কেন্দ্র?



বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই মতোই এবার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁসের জেরে ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার জরিমানাও গুণতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে। শুক্রবারই ক্যাবিনেট বৈঠক রয়েছে। সেখানে আইন সংশোধনের এই নতুন প্রস্তাবগুলি পাশ করানো হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। তিনি বলেন, “আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো প্রশ্ন ফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সূত্রের খবর, এবার পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ সংশোধনের কথা ভাবছে মোদি সরকার। দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা-এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে সংশোধিত আইনে। যেসমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হলেই এই সংশোধনী পেশ হবে সংসদে।

অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, জেপি নাড্ডার বাড়ি বা দপ্তর নয়, আলোচনা হোক নিরপেক্ষ স্থানে। সেই দাবি মেনে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক হবে। সেখান থাকতে পারেন নাড্ডা স্বয়ং। মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও থাকতে পারেন এই আলোচনায়। তবে এই নিয়ে সংসদে কবে আলোচনা হবে, তা এখনও স্থির হয়নি।

....ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার: আঞ্চলিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং শিক্ষা ও পরিবেশ সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তাল পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অনশনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গ ও আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিঃ
বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস পাওয়ার পর সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামক আন্দোলনকারী সংগঠনটি এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন না এবং সে ধরনের কোনো পদক্ষেপও বর্তমানে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সামাজিক অস্থিরতাঃ
শুক্রবার এই আন্দোলনের জবাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেছে, যা রাজপথের উত্তাপ বাড়িয়ে তোলে। তবে প্রধান নেতৃত্ব অনশন থেকে সরে দাঁড়ানোয় রাজপথের সামগ্রিক আন্দোলনের ধার কিছুটা শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমঃ
সীমান্ত পেরিয়ে এই আন্দোলনের রেশ ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের প্রভাব দেখা গেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একশ্রেণীর ব্যবহারকারীকে এটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা ছড়াতে থাকে যে, এই আন্দোলনের জেরে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটতে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিঃ
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস এবং প্রধান নেতৃবৃন্দের অনশন ভঙ্গের ফলে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ রাজপথে শক্ত অবস্থানে থাকার চেষ্টা করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থনে গতি কমার কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে।


মাঝরাতে চারদিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আইসিইউ এর বেডে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা চার বছরের এক শিশুর প্লাটিলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক মাত্রায়। রক্তের জরুরি প্রয়োজন, কিন্তু হাসপাতালে সরঞ্জামের সংকট। অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের স্বল্পআয়ের অফিস সহায়ক বাবার পকেটে চিকিৎসার জন্য টাকা নেই।

ঠিক এমন এক কঠিন মুহূর্তে সামাজিক সহায়তার অনন্য সমন্বয়ে অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেল শিশু মিহিরিমা জেবিন (জেবিন মনি)। তবে এ ঘটনা কেবল একটি শিশুর অলৌকিক জীবন রক্ষার গল্পেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসা ও সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাস্তব কার্যকারিতা’ প্রমাণ করে দিয়েছে।


🌩️ ঝড়বৃষ্টির রাতে জীবন রক্ষার সেই লড়াই:


গত ০৬ মে, ২০২৬ তারিখে হঠাৎ তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশু জেবিন মনিকে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা একসঙ্গে একাধিক জটিল রোগ শনাক্ত করেন—তীব্র ডেঙ্গু, মারাত্মক নিউমোনিয়া, টাইফয়েড এবং রক্তে ছড়িয়ে পড়া ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ। অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে তাকে আইসিইউ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।


জেবিন মনির বাবা মো. সাহাদ হোসাইন (কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক) আকুল কণ্ঠে বলেন, "একদিকে মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয়—আমি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এমন মুহূর্তে কী সিদ্ধান্ত নেব, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।"


এমন চরম সংকটে এগিয়ে আসেন ‘কৃষি মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’র সদস্যরা। গভীর রাতে শিশুটির প্লাটিলেট কমে গেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সমিতির সদস্য ‘মো. আব্দুর রব’ নিজে রক্তদাতা হিসেবে এগিয়ে আসেন। রাতারাতি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিকস সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেবা নিশ্চিত করা হয়। টানা সাত দিনের নিবিড় চিকিৎসার পর শিশুটিকে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।


🏢 ঢাকা শহরকে ৭ জোনে ভাগ: সামাজিক স্বাস্থ্য সহায়তার রূপরেখা:


কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই স্বনির্ভর গাইডলাইনের অধীনে পুরো ঢাকা শহরকে ৭টি আবাসনভিত্তিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর অধীনে জরুরি রক্তদাতা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা এবং হাসপাতালে প্রশাসনিক সমন্বয় রক্ষা করা হয়।


জোন-১ (আজিমপুর): প্রশাসনিক কর্মকর্তা ‘রাবেয়া সিদ্দীকা’ জানান, একাকী জীবনে হঠাৎ অসুস্থতায় তাৎক্ষণিক সাহায্য পেতে এই জোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক একটি পরম ভরসার জায়গা।


জোন-৭ (যাত্রাবাড়ী): অফিস সহকারী ‘আবদুল্লাহ আল আহাদ’ (শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মী) জানান, অ্যানাল ফিস্টুলা অপারেশনের সময় সমিতির শর্তহীন ঋণ ও অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ সাধারণ কর্মীদের জন্য অভূতপূর্ব আশীর্বাদ।


💰 ১,০০০ কোটি টাকার অলস তহবিল ও 'ক্যাশলেস' মডেলের সম্ভাবনা:


বিশেষজ্ঞদের মতে, জেবিন মনির জীবন রক্ষার ঘটনাটি ভবিষ্যৎ জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কারের একটি কার্যকর নমুনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা **আব্দুল হামিদ** কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে এই প্রস্তুতিমূলক মডেলটি বাস্তবায়ন করেন।


প্রস্তাবিত মডেলের মূল ৪টি ভিত্তি:


১. কল্যাণ তহবিল, ২. ইউনিক হেলথ আইডি, ৩. ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম, ৪. ক্যাশলেস চিকিৎসা সেবা ।


বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে প্রায় ‘১,০০০ কোটি টাকার অলস তহবিল’ রয়েছে। সরকারের ওপর কোনো বাড়তি বাজেট চাপ বা আর্থিক বরাদ্দ ছাড়াই এই তহবিল এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর ডিজিটাল সমন্বয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্বনির্ভর ক্যাশলেস চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।


ইতিমধ্যে ’নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ আব্দুল হামিদের ডিজাইন করা এই ‘ক্যাশলেস স্বাস্থ্যবীমা মডেল’টি দেশব্যাপী চালুর জন্য সরকারের কাছে জোরালো নীতিগত সুপারিশ পেশ করেছে।


☀️ জাতীয় বাস্তবায়নের আহ্বান:


টাকার অভাবে যেন কোনো বাবার কোল খালি না হয়, ঔষধ কিনতে গিয়ে সৎ কৃষককে যেন সম্বল বিক্রি করতে না হয়, কিংবা রেমিট্যান্স যোদ্ধার সঞ্চয় যেন হঠাৎ চিকিৎসায় নিঃশেষ না হয়—তার স্থায়ী সমাধান এই মডেল। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে চিকিৎসাজনিত দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং "স্বাস্থ্যসেবায় সবার আগে বাংলাদেশ" গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই ক্যাশলেস স্বাস্থ্য মডেলের জাতীয় বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।


মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক তার এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে জেনেই তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ভাষায়, ‘নেতাকর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই হোক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাদের রক্ত ঝরেছে।’

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে (C-130J) সামরিক বিমানে চড়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air Base) পৌঁছান সেখান থেকে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নেন টানা চার মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকার বর্তমান সরকার। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে নিতে চায় এবং এ জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে। তবে তিনি নিজেই দেশে ফিরে যাবেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।



দলের প্রায় সব স্তরের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে আছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, তিনি দেশে ফিরে দলের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান আদালত কতটা 'প্রহসনমূলক', তা তিনি দেশের মানুষের সামনে প্রমাণ করতে চান। তবে ঠিক কবে বা কোন আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার বা ন্যায়বিচার নিয়ে কোনো গোপন আলোচনা হতে পারে না। দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের ভুলত্রুটি হতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-ভুল বিচারের অধিকার কেবল জনগণের। সেই বিচারের ভার তিনি দেশের মানুষের ওপরই ছেড়ে দিতে চান।

বর্তমানে ভারতে বসে দল গোছানোর কাজ করছেন তিনি। আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করতে এরই মধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টির নেতাদের সঙ্গে তিনি অনলাইনে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে তার দল নিষিদ্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে সাজা দেওয়া হতে পারে বা তিনি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু তার দলকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? তারা যদি খারাপ কিছু করে থাকেন, তবে তার সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে। জেলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো ভয় নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আশির দশকে দেশে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালেও তিনি কারাবরণ করেছিলেন।

গত বছরের (২০২৫ সালের) নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বরাবরই তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবার দেশে ফেরার কোনো সময়সীমা বা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ঢাকা যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তার ভারতে অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সেই সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।



হাসিনার অপরাধের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে- বিএনপিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, "ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের একটি মামলায় বিচার শেষে ঢাকায় আদালতে ফাঁসির রায় হয়েছে। আরও অনেক হত্যা মামলায় আদালতে তার বিচার চলছে।" এই বিচারের বিষয় উল্লেখ করে  রুহুল কবির রিজভী বলেন, "হাসিনার অপরাধের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।"

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা দেশে ফিরবেন কি, ফিরবেন না, বা তারা কী করবেন– সেটা তাদের বিষয়, তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তাদের বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি সরকারের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনে উনি (শেখ হাসিনা) যে হত্যার মহাযজ্ঞ চালিয়েছেন, শিশু-কিশোরদেরও হত্যা করেছেন। সেই হত্যাযজ্ঞের বিচার নিশ্চিত হোক, সেটা জনগণ চায়। আদালতে বিচার চলছে। ফলে অপরাধের ব্যাপারে বিচার হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।"

প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে।

এই ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে গত বছরের ১৭ই নভেম্বর। ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সারা দেশে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৪৫৩টি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে তার বিরুদ্ধে চলা বিচারের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক– আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।"



ষড়যন্ত্র দেখছেন জামায়াত নেতারাঃ

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে কথা বলছেন, এর পেছনে অন্তর্নিহিত কোনো রহস্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।


জামায়াত এখন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে বলেছেন, "ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্যের পেছনে একটা অন্তর্নিহিত রহস্য এবং ষড়যন্ত্র যেমন থাকতে পারে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও কেউ কেউ এ ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।"


অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ষড়যন্ত্র বলতে গোলাম পরওয়ার কী বোঝাতে চাইছেন, এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরের কোনো অংশ যে ওই ষড়যন্ত্রের সাথে নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।"


জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এ-ও বলেন, "যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কড়া কথা বলছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কোনো অংশ পরিকল্পিতভাবে কাজ করে থাকতে পারে।"


এ ধরনের অভিযোগ তুললেও জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বিস্তারিত দেখার পরে তারা তাদের দলের রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন।


একইসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য হচ্ছে, দেশের কোনো মামলায় অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত কেউ যদি স্বেচ্ছায় নিজেকে আইনের কাছে সোপর্দ করতে চায়, সেটা সে করতে পারে। আইনগত দিক থেকে বিষয়টাকে এভাবেই দেখেন তারা।


ফাঁসির রায় কার্যকর চায় এনসিপিঃ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে একটা ইন্টারভিউয়ে (বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার) আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ তো অলরেডি (ইতিমধ্যে) ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা তো শেখ হাসিনা ঠিক করবেন না, তিনি কীভাবে আসবেন। তিনি কাদেরকে নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করবেন কি করবেন না—এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে, এখানে আর কোনো পক্ষ নাই। ফলে এটা সরকার ঠিক করবে—তাঁকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।’


শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বার্তা: সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও জল্পনাঃ

বাংলাদেশ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ‘সরাসরি দেশে আসার খবর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নতুন এবং অত্যন্ত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তৈরি হয়েছে মিশ্র ও জোরালো প্রতিক্রিয়ার ঢেউ।

খবরটি প্রকাশের পরপরই আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত টাইমলাইন এবং দলীয় গ্রুপগুলোতে সংবাদ মাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। দীর্ঘদিন পর তাদের নেত্রীর এই সরাসরি আসার খবর দলটির মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অপরদিকে, ভিন্ন মতাবলম্বী, বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা বিভিন্ন পক্ষের সমর্থকদের মাঝে এই খবরের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক। তারা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য ও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে এই তুমুল প্রতিক্রিয়াগুলোর বাইরে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কি ঘটবে? শেখ হাসিনা কি আসলেও দেশে ফিরবেন? আর ফিরলে তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কিভাবে পরিবর্তন করবে? এটি কি নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করবে নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নিয়ে যাবে— তা সময়ের সাথেই পরিষ্কার হবে। আপাতত সব চোখ এই প্রত্যাবর্তন বার্তার পরবর্তী ঘটনাবলীর দিকে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (চ. দা.) এ এস এম ইকবাল হাসানের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন আজ (৯ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম) এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে পাঠানো হয়েছে।

তারও আগে আজ জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রথমে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখলেও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং শপথ গ্রহণও স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর আজ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ফেসবুকে আমরা

ভিডিও গ্যালারী

আরো ভিডিও দেখুন

 

 

সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ আরো খবর