ফেনী ও চট্রগ্রামের মিরসরাই সীমান্তে বিজিবির তল্লাশি ও টহল জোরদার
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ—২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন তারেক রহমান
রাজধানীর মতিঝিলে গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি
শাপলা কলি, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা—কবিরহাটে ভোটের ঢেউ, সমীকরণে উত্তেজনা
-- ছবিঃ পুুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. বাহারুল আলম ।
শুক্রবার রাতেই সারা দেশে ‘অলআউট’ অভিযান চালাবে পুলিশ। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পর শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে পুুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. বাহারুল আলম এমন তথ্য জানিয়েছেন। নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতেই এ হামলা চালানো হয়েছে- এমন ধারণার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, হাদি হত্যাচেষ্টার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমরা এ মুহূর্তে বলছি না; আমরা কাজ করছি এবং বিফল হব না।
বিস্তারিতবিজয়ের মাস ডিসেম্বর—বাঙালির অহংকার, গৌরব ও আত্মমর্যাদার মাস। আজ থেকে ঠিক ৫৪ বছর আগে, ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী হানাদারমুক্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি নরসিংদীবাসীর কাছে আজও এক অবিস্মরণীয়, গৌরবোজ্জ্বল ও আবেগঘন স্মৃতি।
দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নরসিংদী জেলায় সংঘটিত হয় শতাধিক খণ্ডযুদ্ধ। এসব যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতা ও নৃশংসতার শিকার হয়ে ১১৬ জন বীর সন্তান শহীদ হন। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ২৭, মনোহরদীতে ১২, পলাশে ১১, শিবপুরে ১৩, রায়পুরায় ৩৭ ও বেলাবো উপজেলায় ১৬ জন শহীদ হন। এছাড়া সশস্ত্র হামলার সময় অসংখ্য নারী-পুরুষকে হত্যা করে গণকবর দেয় হানাদার বাহিনী। সেই দিনগুলোর নির্মমতা মনে হলে এখনো শিউরে ওঠেন এলাকাবাসী।
ঢাকার সন্নিকটে অবস্থান হওয়ায় নরসিংদী ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাঞ্চল। দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে জেলার আপামর জনসাধারণ সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধ, আক্রমণ ও ঘাঁটি ভাঙার লড়াই একসময় হানাদারদের পরাজয়ের পথে ঠেলে দেয়। মার্চ থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন এবং একের পর এক আক্রমণে দুর্বল করে তোলেন দখলদার বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা পরাজয় ও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নরসিংদী জেলা ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে, যার কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ। পরে জেলার কিছু অংশ ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনেও অন্তর্ভুক্ত হলে ব্রিগেডিয়ার (অব.) এএসএম নুরুজ্জামান কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
নরসিংদীকে মুক্ত করতে যেসব এলাকায় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বাঘবাড়ী, পালবাড়ী, আলগী, পাঁচদোনা, পুটিয়া, চলনদীয়া, হাতিরদীয়া বাজার, শ্রীরামপুর বাজার, রামনগর, মেথিকান্দা, হাঁটুভাঙ্গা, বাঙালীনগর, খানাবাড়ী, বেলাব বাজার, বড়িবাড়ী, নারায়ণপুর ও নীলকুঠি। -এ স্থানগুলো আজও সেই রক্তঝরা দিনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন— “নরসিংদীর মানুষ আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে ১২ ডিসেম্বরকে। শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অগাধ কৃতজ্ঞতা আর স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আজ নরসিংদীবাসী পালন করছে তাদের হানাদারমুক্ত দিবস।
মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশিকে ফেসবুকে জঙ্গিগোষ্ঠীর পক্ষে পোস্ট এবং তাদের দেওয়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট শেয়ার করায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই কারাদণ্ড দেন।
সংবাদমাধ্যম মালয়মেইল জানিয়েছে, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ দিদারুল আলম। ২৯ বছর বয়সী এ বাংলাদেশি রেস্তেরাঁয় কাজ করতেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক দাতুক আজহার আব্দুল হামিদ এই রায় দেন। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
দিদারুল আলম ‘আল মুবিন ইসলাম’ নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর পোস্ট শেয়ার এবং তাদের পক্ষে পোস্ট দিতেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে সেটির সর্বোচ্চ শাস্তি ৪০ বছরের কারাদণ্ড। তবে তাকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
পুলিশ তাদের তদন্তে খুঁজে পেয়েছে, দিদারুল আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রচারণা চালাতেন। ভিডিও ও লেখা পোস্টের পাশাপাশি অন্যান্য কনটেন্ট শেয়ার করতেন তিনি।
মালয়েশিয়ার ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতকে আহ্বান জানান, দিদারুলম আলমের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে করে অন্য কেউ বা বিদেশিরা এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না।
দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো রেকর্ড নেই বলে জানিয়েছেন ডেপুটি পাবলিখ প্রসিকিউটর। কিন্তু তিনি জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রচারণা চালিয়ে যে কাজ করেছেন এটি মালয়েশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
আদালতে দিদারুল জানান তিনি বাংলাদেশে তার বাবা-মা ও পরিবারকে চালান। এজন্য দোষ শিকার করেও তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সূত্র: মালয়মেইল।